Follow Us

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধলে হারবে পাকিস্তান, স্বীকার করলেন ইমরান খান

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধলে হারবে পাকিস্তান, স্বীকার করলেন ইমরান খান

ইসলামাবাদ: অবশেষে সত্যিটা স্বীকার করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ একাধিক বার ভারতকে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দেওয়ার পর সুর বদলালেন ইমরান খান, রবিবার পাক রাজধানী ইসলামাবাদে বসে ইমরান খান স্বীকার করে নিলেন ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের হেরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি৷ এই অবাক করা দৃশ্য দেখে বেশ কিছুটা অবাক আন্তর্জাতিক মহল৷

এদিন ইমরান বলেন, তিনি শান্তিপ্রিয় মানুষ৷ বরাবর যুদ্ধের ঘোরতর বিরোধী৷ তাঁর দেশ কখনই প্রথমে পরমাণু যুদ্ধ শুরু করবে না বলেও এদিন জানান পাক প্রধানমন্ত্রী৷ যুদ্ধ কোনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না বলেও এদিন মন্তব্য করেন তিনি৷

তাঁর দাবি, যুদ্ধ একটা সমস্যা থেকে আরেকটা সমস্যার জন্ম দেয়৷ ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও তাই দেখা গিয়েছে৷ তাই ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ যুদ্ধ কোন সমস্যার সমাধান করতে পারবে না না,

ইমরান খানের স্বীকারোক্তি, ভারত পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যুতে যুদ্ধ বাঁধলে, তা গড়াবে পরমাণু যুদ্ধের ভয়াবহতায়৷ তবে পাকিস্তানের সামনে দুটো রাস্তা খোলা থাকবে৷ এক, আত্মসমর্পণ করা, দুই, স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দেওয়া৷ পাকিস্তানিরা দ্বিতীয় পথটাই বেছে নেবে৷

কাশ্মীর ইস্যুতে ফের একবার ভারতকে দোষারোপ করে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততার জন্য দায়ী ভারত৷ কাশ্মীর নিয়ে এই ধরণের পদক্ষেপ পাকিস্তান মেনে নিতে পারে না৷ অনৈতিকভাবে কাশ্মীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি৷

ভারতের জন্যই দুই দেশের মধ্যে আলোচনার রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করে ইমরান খান বলেন পাকিস্তান ফের একবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও রাশিয়াকে এই ইস্যুতে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করবে৷

এর আগে অবশ্য সুর যথেষ্ট চড়া ছিল পাক প্রধানমন্ত্রীর৷ মানবাধিকারকে হাতিয়ার করে ভারতকে চূড়ান্ত ভয়াবহতার বার্তা শুনিয়ে ছিলেন ইমরান খান। ভারতীয় সেনা জম্মু ও কাশ্মীরে অব্যবস্থা চালিয়েছে তার উল্লেখ করেই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে পরমাণু যুদ্ধ ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি৷

তিনি বলেছিলেন, “কাশ্মীরের মানুষ এবার ভারতের বিরোধিতা করবে। যা পরিস্থিতি আসছে, তাতে বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিতে পারে তাঁরা। এই কথা বলে তিনি জানান যে, নরেন্দ্র মোদী কাশ্মীরিদের ধৈর্যর পরীক্ষা নিচ্ছে। আমরা শান্তি চাই। পুলওয়ামায় ২০ বছরের একজন যুবক বিরক্ত হয়ে নিজেকে সশস্ত্র করে তুলেছে।”

পাক প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীর ইস্যুকে মানবিক সংকট বলে ব্যাখ্যা করেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টও কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে সরব হয়েছে। মোদী সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ভারতীয় সেনা যেভাবে হিংসা ছড়াতে চাইছে তাতে কোন সাফল্য আসবে না। ভারত এবার সবকিছুর সোজাসাপটা উত্তর পাবে।